গতকাল শুক্রবার (৮ মে) মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে খুতবায় হজের প্রসঙ্গ আলোচিত হয়েছে। সেখানে তাকওয়া ও ইখলাস নিয়ে হজের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মসজিদে হারামে খুতবা দেন শায়খ আবদুল্লাহ আল-জুহানী। তিনি হজ মৌসুমকে সামনে রেখে আল্লাহর সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার আহ্বান জানান। কথা ও কাজে ইখলাস ও সততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাকওয়া, তাওবা ও আমলের বিশুদ্ধতার কথা বলেন। মুসলমানদের ঐক্য ও আল্লাহর বিধানের অনুসরণের ওপর জোর দেন।
খতিব বলেন, মানুষের প্রকৃত সফলতা আল্লাহর আনুগত্য ও তাকওয়ার মধ্যে নিহিত। কেবল বাহ্যিক আমল নয়, বরং অন্তরের ইখলাস ও নিয়তের বিশুদ্ধতাই আল্লাহর কাছে অধিক মূল্যবান। তিনি মুসলমানদের প্রতিটি কাজে সততা ও আল্লাহভীতির পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান।
খুতবায় তিনি হজ প্রসঙ্গে বলেন, হজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। হজযাত্রীদেরকে শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও উত্তম আচরণ বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।
খতিব মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আল্লাহর বিধানের অনুসরণই মুসলমানদের শক্তির মূল ভিত্তি। তিনি বেশি বেশি তাওবা, কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও নেক আমলে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
মসজিদে নববিতে খুতবা দেন শায়খ আলী আল-হুদাইফী। তিনি তার খুতবায় উল্লেখ করেন, ইসলামের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানবসমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা। প্রকৃত ঈমান মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। শিরক, গুনাহ ও জুলুম মানুষের অস্থিরতার কারণ।
খতিব বলেন, প্রকৃত ঈমান ও তাকওয়া মানুষের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্ম মানুষের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তার কারণ হয়। বিপরীতে গুনাহ, জুলুম, অবিচার ও সীমালঙ্ঘন সমাজে অস্থিরতা ও ভয়ভীতির জন্ম দেয়।
খতিব আরও বলেন, নিরাপত্তা আল্লাহর বড় নেয়ামত। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া ইবাদত, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক জীবন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়। এজন্য মুসলমানদের পারস্পরিক অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।খতিব মুসলমানদের বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, তাওবা ও নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

