Saturday, May 9, 2026
HomeUncategorizedইরান যুদ্ধ শেষ হবে, থেকে যাবে মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈরিতা

ইরান যুদ্ধ শেষ হবে, থেকে যাবে মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈরিতা

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত, ইউরোপের অন্যান্য স্থানে সেনাসংখ্যা কমানোর হুমকি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলাকে লঘু করে দেখানোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো এই যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী পরিণতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর তা হলো প্রধান মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন তাদের ১০ সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড ইউরোপ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল পর্যন্ত ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে নতুন আশঙ্কা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। আর তা হলো, ভবিষ্যতের কোনো সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা রাখা সম্ভব না-ও হতে পারে।

এর প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ঐতিহ্যবাহী সহযোগী এমনভাবে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে শুরু করেছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষরা এই কৌশলগত সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের এই যুদ্ধ বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে একটি স্থায়ী মোড় ঘুরিয়ে দেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কিন্তু বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তার খামখেয়ালি আচরণ, যা মূলত নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছে, তা মার্কিন জোটগুলোকে আরো দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাটো যেহেতু তার রোষের শিকার হচ্ছে, তাই এই জোট আরো দুর্বল হবে।

ওবামা প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে ট্রাম্পের বেপরোয়া মনোভাব কিছু নাটকীয় পরিবর্তনের জন্ম দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রমাণ ছাড়াই তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি রয়েছে বলে দাবি করে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ট্রাম্প ও ইউরোপীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিশেষভাবে বেড়েছে। হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করে। এই সংকটের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তারা কখনো চায়নি।

এর আগেও ট্রাম্প ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য চাপ দিয়ে এবং ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা কমিয়ে দিয়ে মিত্রদের বিচলিত করেছিলেন। এই সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, জার্মানিতে মোতায়েন থাকা ৩৬ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনার মধ্যে থেকে তিনি পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। এর আগে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করছে। তার এ মন্তব্যে ক্ষব্ধ হন ট্রাম্প। এরপর পেন্টাগন জার্মানিতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের একটি পরিকল্পিত কর্মসূচি বাতিল করে দেয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় পোষ্ট