বগুড়ায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম অনুসারে কয়েকটি নতুন ইউনিয়নের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে “মীরবাড়ি”, “সীমান্ত” এবং “দিগন্ত”।
সমালোচকদের দাবি, কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে সরকারি প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণ করানো নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, ইউনিয়নের নাম স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভূগোল বা জনগণের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ জনসেবার চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। তাদের প্রশ্ন, প্রশাসনিক এলাকার নামকরণ কি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে হয়েছে, নাকি ক্ষমতার প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সামাজিক পরিচয়কে উপেক্ষা করে নতুন নাম চাপিয়ে দেওয়া হলে তা জনমতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল হবে। তারা নামকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং গণশুনানির দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র ও প্রশাসনিক কাঠামোকে ব্যক্তি-নির্ভর না করে প্রতিষ্ঠান-নির্ভর রাখাই কাম্য। ক্ষমতাসীন কোনো ব্যক্তির নামকে সরকারি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ জনগণের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের ধারণা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুরনো আওয়ামী আমলের ফ্যাসিবাদি হতে সাহায্য করে।
সুমাইয়া ইসলাম
লেখক ও বিশেষ প্রতিনিধি 2W News
মোবাইল নাম্বারঃ +44 7440 463135

