Monday, September 14, 2026
HomeUncategorizedআসিফের বিরুদ্ধে ৭ মাস আগে আওয়ামী লীগের ছড়ানো প্রোপাগান্ডা রিপোর্টের অভিযোগ এখন...

আসিফের বিরুদ্ধে ৭ মাস আগে আওয়ামী লীগের ছড়ানো প্রোপাগান্ডা রিপোর্টের অভিযোগ এখন দুদকে

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১১ তারিখ আওয়ামী লীগপন্থী প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট ‘ডেইলি আজকের কণ্ঠ’ একটি প্রতিবেদন  প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল, “‘মানিলন্ডারিং’ বোমা ফাটল: ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ মাহমুদ!”। ওই প্রতিবেদনে নামহীন গোয়েন্দা সূত্র এবং কথিত “আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের” এর ‘নথিপত্রের’ বরাতে জানানো হয়েছিল যে, আসিফ মাহমুদ দুবাইয়ে ৪৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩০০০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২০০০ কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১৫০০ কোটি টাকা পাচার করে বিভিন্ন সম্পদ কিনেছেন।

কথিত রিপোর্টটিতে এসব দাবির পক্ষে কোন নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। কোন একটি সূত্রের নামও উল্লেখ করা হয়নি এসব দাবি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে। উল্টো “আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের” নামে যে প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে এই নামে কোন সংস্থার নাম অনলাইনে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সুইজারল্যান্ডে আসিফ মাহমুদের কথিত পাচারকৃত ১৫০০ কোটি টাকার বিষয়ে দাবি করা হয়েছিল, “সুইজারল্যান্ড: গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট:

সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক একটি ব্যাংকে ‘শেল কোম্পানি’র নামে বিপুল অর্থ গচ্ছিত রাখা হয়েছে। জমা: ১,৫০০ কোটি টাকা।”

কিন্তু সুইস কোন ব্যাংকের গোপন একাউন্টে জমা থাকা ১৫০০ কোটি টাকার খবর ‘ডেইলি আজকের কণ্ঠ’ কীভাবে পেল- সেটির কোন ব্যাখ্যা বা প্রমাণ দেয়া হয়নি। পাশাপাশি বাকি তিনটি দেশে যে পরিমাণ টাকা পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই পরিমাণগুলো কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে তারও কোন ব্যাখ্যা নেই। আওয়ামী প্রোপাগান্ডা রিপোর্টে করা অভিযোগ এখন দুদকে

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে এমন একটি সূত্রহীন প্রোপাগান্ডা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিভিন্ন দাবি ৭ মাস পর গতকাল দুদকে ‘অভিযোগ’ আকারে জমা হয়েছে।

গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, “বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। আসিফের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এসেছে।”

তানজির বলেন, “আসিফের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। নতুন অভিযোগটি সেই চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।”

দুদকের ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদেরকে অভিযোগের বিষয়ে একটি কাগজ দেয়া হয়। তাতে লেখা রয়েছে, “দুর্নীতির টাকা দিয়ে তিনি পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রীন গ্রুপে বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। তিনি দুবাইতে ৪,৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি টাকা ও সুইজারল্যান্ডে ১,৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন।”

সাংবাদিকদেরকে দেয়া দুদকের অভিযোগ সংক্রান্ত কাগজটির আরও কিছু লেখা ‘ডেইলি আজকের কণ্ঠ’ এর প্রতিবেদনের সাথে মিলে যায়। যেমন দুদকের কাগজে লেখা রয়েছে, “শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।”

অন্যদিকে আওয়ামী প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইটের রিপোর্টে লেখা রয়েছে, “অভিযোগ আছে, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর একক কারিগর ছিলেন আসিফ মাহমুদ।”

দুদকের কাগজে লেখা হয়েছে, “তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় পোষ্ট