Tuesday, October 6, 2026
HomeUncategorizedচাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার, ফেরেন যুগ্ম সম্পাদক হয়ে, ভারতীয় মাদকসহ ধরা...

চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার, ফেরেন যুগ্ম সম্পাদক হয়ে, ভারতীয় মাদকসহ ধরা পড়েও শাস্তি পাননি হাসিব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার হওয়া হাসিবুর রহমান হাসিবকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির কল রেকর্ড ফাঁসের পর দল থেকে বহিষ্কার, পরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কমিটিতে পদ পাওয়া, শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ এবং মাদকসহ গ্রেপ্তারের মতো ঘটনায় নাম এলেও প্রতিবারই তিনি রাজনৈতিকভাবে ফিরে এসেছেন। সর্বশেষ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আবারও তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ বছরেও শেষ করতে পারেনি স্নাতক। হাসিবের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর থেকেই। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মোবাইল চুরির অভিযোগে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানা পুলিশ তাকে আটক করেছিল বলে জানা যায়।

তারপর ক্যাম্পাস থেকে হয়ে যান নিষ্ক্রিয়। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলেও এখনও স্নাতক শেষ করতে পারেননি তিনি।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ বিবেচনায় পুনঃভর্তি হয়ে স্নাতকেই অধ্যয়ন করছেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির একটি কল রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফাঁস হওয়া ওই কথোপকথনে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার শর্তে টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে হাসিবের বিরুদ্ধে। পরে কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর কিছুদিন পর ২০২৫ সালের ২৯ জুন তার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ করা হয়, এক শিক্ষার্থীর ফুডকার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তর থেকে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে নিয়ে নেন হাসিব।

এসব ঘটনার মধ্যেই ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট হাসিবের আগের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে হাসিবকে ১৪ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পরই তিনি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন। তবে পদ পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থামেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো, হুমকি দেওয়া, ছিনতাই এবং ফুডকার্ট দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনাও হয়।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল রাতে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে হাসিবের বিরুদ্ধে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের পাশে ওই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর কয়েক মাস পর চলতি বছরের ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ৭ পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডলসহ আটক হন হাসিব। পরে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠলেও তখনই কোনো সাংগঠনিক শাস্তি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তাকে বহিষ্কার না করে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে।

সবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসেন হাসিব। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় বারবার বিতর্কে জড়ালেও হাসিবের রাজনৈতিক পদবী দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে থেমে থাকেনি। একবার চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার হওয়ার পরও তিনি ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। পরে মাদকসহ গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাতেও সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আবারও বহিষ্কার করা হয় তাকে।

বারবার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কীভাবে হাসিব ছাত্রদলের রাজনীতিতে ফিরলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন, বিশেষ করে মাদকসহ গ্রেপ্তারের পরও কেন তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ নিয়েও রাবি ক্যাম্পাসে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় পোষ্ট