Wednesday, April 15, 2026
HomeUncategorizedহাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা হেলাল ৩ দিনের রিমান্ডে

হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা হেলাল ৩ দিনের রিমান্ডে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

আসামির কোনো বক্তব্য আছে কি না, আদালত জানতে চাইলে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে জানান তিনি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আসামি মো. মাজেদুল হক হেলালকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং দোকানের মালিক।

আবেদনে বলা হয়, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র (পিস্তল) নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষায় পিস্তলের সিরিয়াল নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ২০১৭ সালে আমদানি করা পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের এম আইচ আর্মস কোং নামের অস্ত্রের দোকান থেকে চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই দোকান থেকে চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং-এর কাছে বিক্রি করা হয়।

তদন্ত করে জানা যায়, সেই দোকানের মালিক মাজেদুল হক হেলাল, তার লাইসেন্স ৪৫/৪৮। লাইসেন্সটি আগে তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল। পরে ২০০০ সালে লাইসেন্সটি তার নামে করে নেন। তার লাইসেন্সটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা ছিল। পরে আর নবায়ন হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স দোকান থেকে অস্ত্রটি কেনেন হেলাল। সেই অস্ত্রটি হেলালের কাছ থেকে কীভাবে আসামিদের কাছে গেল, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ারে পাঠানো হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় পোষ্ট